জ্বালানি পণ্য আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি ও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিয়েছে ভিয়েতনাম। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষিত শুল্ক ঝুঁকি এড়াতে চাইছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
এ পদক্ষেপগুলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শিল্পকেন্দ্রিক দেশটির গত কয়েক সপ্তাহে ঘোষিত সার্বিক উদ্যোগের অংশ, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভিয়েতনামের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমানোর লক্ষ্যে নেয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্যতম ভিয়েতনাম, মার্কিন বাজারে রফতানি থেকে আসে দেশটির জিডিপির উল্লেখযোগ্য অংশ। গত বছর ওয়াশিংটনের সঙ্গে হ্যানয়ের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ছিল ১২ হাজার ৩০০ কোটিরও বেশি।
ভিয়েতনামের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোভিয়েতনাম পাওয়ার জানিয়েছে, মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান জিই ভার্নোভার সঙ্গে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সরঞ্জাম এবং সেবা সংগ্রহের জন্য একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ভিয়েতনামের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে জ্বালানি সরঞ্জাম, ইথানল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সংক্রান্ত পণ্য আমদানির জন্য প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে।
এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্ক ক্ন্যাপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী ফাম মিন চিন হি জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক পর্যালোচনা করছে ভিয়েতনাম। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে ভিয়েতনামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন পণ্য, বিশেষ করে কৃষিপণ্য, তরল গ্যাস ও হাই-টেক পণ্যের আমদানি বাড়ানো।
তবে এ চুক্তির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিটি কীভাবে মূল্যায়ন করছে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে একটি বড় মার্কিন করপোরেট প্রতিনিধি দল ভিয়েতনাম সফরে যাচ্ছে। এ দলে রয়েছে অ্যাপল, বোয়িং ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান।
ভিয়েতনামে মার্কিন ব্যবসা ও প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো শুল্কের ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে ভিয়েতনামি কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদা পূরণ এবং দেশটির ব্যবসার জন্য সহায়ক নীতি গ্রহণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ইলোন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক সেবাকে লাইসেন্স দেয়ার প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত।